মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ করে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার ওমরাহ যাত্রী।
নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে না পেরে অনেকেই এখন অর্থসংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশ হজ মিশন সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে বহু যাত্রীর আগের টিকিট অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে দেশে ফিরতে তাদের নতুন করে টিকিট কিনতে হচ্ছে।
এ জন্য অনেক ট্রাভেল এজেন্সি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে।
মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে।
এতে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে আসা বহু যাত্রী আটকা পড়েছেন। কেউ মক্কায়, কেউ মদিনায় অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, অনেক মুতামিরের কাছে এখন থাকার ও খাওয়ার খরচও নেই। প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেশিরভাগ ট্রাভেল এজেন্সি তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে না।
ফলে প্রতিদিন নানা সমস্যার কথা জানাতে হজ মিশনে ভিড় করছেন আটকে পড়া যাত্রীরা।
রাজশাহীর মো. আজাদ নামের এক মুতামির জানান, তিনি দেড় লাখ টাকা খরচ করে ওমরাহ পালনের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে আসেন। তার দেশে ফেরার ফ্লাইট ছিল ৭ মার্চ।
কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন নতুন টিকিট কাটতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে, যা তার পক্ষে জোগাড় করা কঠিন।
মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দার বলেন, এক সপ্তাহ ধরে নিজ খরচে হোটেল ও খাবারের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ট্রাভেল এজেন্সি কোনো সহায়তা করছে না। বাধ্য হয়ে তিনি ভারতের কলকাতা হয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা কয়েকজন যাত্রী। তারা বলেন, নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর থেকে নিজেদের খরচেই হোটেলে থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন হোটেল ভাড়া ও খাবারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, যাত্রীদের অনেকেই অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে নতুন টিকিট কিনে দেশে ফিরছেন। এতে সাড়ে তিন হাজার যাত্রীর জন্য মোট অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ১৮ কোটি টাকার মতো হতে পারে।
বাংলাদেশ হজ মিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। কারণ, খালি উড়োজাহাজ পাঠিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়ার খরচ অত্যন্ত বেশি পড়ছিল।
বর্তমানে যেসব এয়ারলাইন্স সীমিত আকারে ফ্লাইট চালু রেখেছে, সেগুলোর খালি আসনে টিকিট সংগ্রহ করে ধীরে ধীরে যাত্রীদের দেশে ফেরানো হচ্ছে। কেউ কেউ আবার ভারতের কলকাতা হয়ে ঢাকায় ফেরার পথ বেছে নিচ্ছেন।
হজ মিশন কর্মকর্তারা জানান, আটকে পড়া যাত্রীদের সমস্যার সমাধানে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।