1. voktatv1@gmail.com : ভোক্তা সমাচার : ভোক্তা সমাচার
  2. info@www.dailybhoktasamachar.com : ভোক্তা সমাচার :
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

কিশোরী আমেনা হত্যা, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সৎ বাবাই খুনি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরী কন্যাকে সৎ বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে সে হত্যার আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সৎ বাবা আশরাফ আলী। তিনিই আমেনাকে হত্যা করেছে!

শুক্রবার (৬ মার্চ) নরসিংদীর আদালতে ১৬৪ ধারায় এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে রোববার (৮ মার্চ) জানিয়েছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন।

এর আগে পুলিশি অনুসন্ধানে বাবা আশরাফ আলীর নিজ এলাকা শেরপুরের নালিতাবাড়ীর এক গণমাধ্যম কর্মীর দেওয়া তথ্য ও আমেনা হত্যার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আশরাফ আলী তার নিজ জন্মস্থান নালিতাবাড়ীর এক গৃহবধূকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।

গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি হাইকোর্টের আদেশে খালাসপ্রাপ্ত হয়ে নরসিংদীর মাধবদীতে তৃতীয় বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নালিতাবাড়ী উপজেলার মৌয়াকুড়া গ্রামের কুব্বাত আলীর ছেলে আশরাফ আলী (৪০)। ২০১১ সালের ৮ মে রাতে নিকট আত্মীয় অলিল মিয়া বাড়ি না থাকায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে।

পরে অলিলের স্ত্রী হাজেরা বেগমকে (২২) ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় হাজেরা অস্বীকৃতি জানালে হাতে থাকা ছুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় আশরাফ।

হাজেরার চিৎকার চেচামেচিতে পাশের ঘরে থাকা শাশুড়ি ও প্রতিবেশিরা ছুটে আসে। তবে ঘটনাস্থলেই মারা যান হাজেরা। এদিকে আশরাফ রক্তমাখা শরীর নিয়ে নিজেই চিৎকার করে হাজেরাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ভ্যান আনতে যায়।

এতে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তাকে আটক করে এবং সকালে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় হাজেরার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। থানা ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আশরাফ।

২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় শেরপুরের আদালত আশরাফ আলীকে মৃত্দণ্ড দেন। ২০২৪ সালে সেপ্টেম্বরে হাইকোর্ট থেকে খালাসপ্রাপ্ত হয়ে নরসিংদীর মাধবদীতে স্বামী পরিত্যক্তা ফাহিমাকে তৃতীয় বিয়ে করে নতুন করে সংসার জীবন শুরু করেন। ফাহিমার আগের সংসারের মেয়ে কিশোরী আমেনা।

স্থানীয় তথ্যমতে, স্বামী পরিত্যক্তা আমেনার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ছিল। একইভাবে সৎ বাবা আশরাফ আলীও তাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করতে চেষ্টা করছে বলে জানান এলাকাবাসী।

চলতি বছরের গত ১০ ফেব্রুয়ারি আমেনাকে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধর্ষণ করে। ওই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে দফারফা হয় এবং আশরাফ আলীকে সপরিবারে এলাকা ছাড়তে বলা হয়।

এর কয়েকদিন পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলী আমেনাকে খালার বাড়ি পৌঁছে দেওয়া কথা বলে বের হয়। পরে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেতে হত্যা করে ফেলে রাখে।

২৬ ফেব্রুয়ারি মরদেহ উদ্ধারে পর আশরাফ আলী জানায়, ধর্ষণকারীদের মধ্য হতে ৫ জন বড়ইতলা এলাকায় তার কাছ থেকে আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলে তিনি খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। অভিযোগ আনা হয়, আমেনাকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় গণধর্ষণ শেষে হত্যা করে ফেলে গেছে।

এ ঘটনায় আমেনার মা ফাহিমা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করে। তবে সৎবাবা আশরাফের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তদন্তকাজ শুরু করে। একপর্যায়ে নালিতাবাড়ীর গণমাধ্যমকর্মী মনিরুল ইসলাম মনিরের সহায়তায় আশরাফ আলীর পূর্বের ঘটনার সন্ধান পায় পুলিশ।

এতে তদন্তকাজে গতি আরও বাড়ে। পরে গত ৬ মার্চ আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভাড়া বাসা থেকে থানায় নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সৎ কন্যা আমেনাকে হত্যার স্বীকারোক্তি দেয় আশরাফ আলী। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠায়।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থেকেই আশরাফ আলীর আচরণ সন্দেহজনক ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, আমেনা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় স্থানীয় লোকজন তাকে কটু কথা বলতো। আর এ অপমানেই সে তার সৎ কন্যাকে হত্যা করেছে।

ওসি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিকে হাইকোর্ট খালাস দেয়। এতে আশরাফ আলী অপরাধে আরও উৎসাহিত হয়।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট