বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে ঢাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বর্তমানে সফররত অবস্থায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপর তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক বোঝাপড়া জোরদার, বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষ করে মিয়ানমার পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে।
ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই দুই দিনের এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আমেরিকার এমবাসির এক বিবৃতিতে জানায়, সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
সফরসূচি অনুযায়ী, কাপুর আজ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন।
সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং সরবরাহ চেইন বৈচিত্র্যকরণ- এসব বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।
সফরের শেষদিন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন মার্কিন এই কূটনীতিক। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে।
ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঢাকার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথমদিকের উচ্চপর্যায়ের এই যোগাযোগ ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।