কাতার সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও তার আশপাশের অঞ্চলে বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি দোহায় এক বিবৃতিতে বলেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করলে ইরান কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।
তখন কাতার মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্থাপন করতে সহায়তা করেছিল, যা এখনও বলবৎ আছে।
এদিকে, ইরানে গত দু’সপ্তাহ ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। মূলত মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হলেও, দ্রুত তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের মুদ্রা রিয়েলের অবমূল্যায়ন ও খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদার দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ এখন কষ্টে জীবন যাপন করছে।
সরকার বিক্ষোভ দমন করতে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে এবং সেনা মোতায়েন করেছে। পুলিশ ও সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিগগিরই মার্কিন সহায়তা আসছে।
এর জবাবে ইরান সতর্ক করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করবে।
কাতার আবারও উল্লেখ করেছে যে, এ ধরনের উত্তেজনা এড়াতে সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র উপায় এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জরুরি।